শুক্রবার ২ জানুয়ারী ২০২৬ - ২০:৩০
ঐতিহাসিক ১৩ রজব ও ইমাম আলী (আ.)-এর শুভ জন্মবার্ষিকী

১৩ রজব উম্মুল মুমিনীন হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদ (সা.)-এর জন্য যেমন এক অপরিসীম নিয়ামত ও সম্মানের দিন, তেমনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্যও এক মহাসম্ভাষণ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
 
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি জ্ঞান, বীরত্ব ও ন্যায়পরায়ণতার নক্ষত্র দ্বারা মানবতার মহাকাশকে আলোকিত করেছেন। 
অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি, বিশেষ করে সেই মহামানবের প্রতি, যাঁর জন্ম ইসলামের ইতিহাসে একটি স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় সূচনা করেছিল-আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)।

১৩ রজব উম্মুল মুমিনীন হযরত ফাতিমা বিনতে আসাদ (সা.)-এর জন্য যেমন এক অপরিসীম নিয়ামত ও সম্মানের দিন, তেমনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্যও এক মহাসম্ভাষণ। এ দিনে আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানিতে কাবা শরীফের পবিত্র গর্ভে জন্ম নেন সেই মহাস্মৃতি, যাঁর সমগ্র জীবন ছিল তাওহিদের বাণী, নবুয়তের জ্ঞান ও ইমামতের নূরের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তিনি হলেন ইসলামের প্রথম শিশু, যাঁর জন্ম থেকেই আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তিনি হলেন সেই বীর, যিনি শৈশবেই রাসূল (সা.)-এর সান্নিধ্যে লালিত-পালিত হয়ে সর্বপ্রথম ঈমানের স্বীকৃতি দেন এবং আজীবন ইসলামের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেন।

ইমাম আলী (আ.)-এর জন্ম কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি একটি আদর্শিক বিপ্লবের সূচনা। তাঁর জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে জ্ঞানচর্চা, আত্মসংযম, ন্যায়বিচার, দানশীলতা ও শত্রুর মুখেও সত্যের উপর অটল থাকতে হয়। তিনি ছিলেন 'বাবুল ইলম' (জ্ঞানের দরজা), 'আসাদুল্লাহিল গালিব' (আল্লাহর সিংহ), 'আল-মুরতাজা' (সন্তুষ্ট) এবং 'আমীরুন নাস'-এর (মানবতার নেতা) মর্যাদায় অভিষিক্ত। রাসূল (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী তার দরজা।"

আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত ইমাম আলী (আ.)-এর জীবনাদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করা। তাঁর শিক্ষা-যা নাহজুল বালাগা ও অসংখ্য হাদিসে ছড়িয়ে আছে-তার থেকে জ্ঞান অর্জন করা এবং মানবসেবা, সমাজসংস্কার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তিনি যেভাবে দীনি ইলম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন, তা আজকের অস্থির বিশ্বে আমাদের জন্য পথ নির্দেশিকা।

এই পবিত্র দিনে আমরা সকল মুসলমান, বিশেষত যারা আহলে বাইত (আ.)-এর মহব্বত ও অনুসরণকে ঈমানের অংশ মনে করেন, তাদেরকে ইমাম আলী (আ.)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও আমল করার আহ্বান জানাই। আসুন, তাঁর জন্মদিনের আনন্দ আমরা কেবল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, বরং তাঁর শিক্ষাকে সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে উদযাপন করি।

আল্লাহ আমাদের সকলকে ইমাম আলী (আ.)-এর সিরাত অনুসরণের তাওফিক দান করুন এবং তাঁর শাফায়াত আমাদের নসিব করুন। আমীন।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন
মাওলানা হায়দার আলী
[পেশ ঈমাম নারিকেল বেডিয়া মসজিদ, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত]

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha